March 1, 2026, 4:14 pm

সুলতানি ও মোঘল ঐতিহ্য ঝালকাঠির গালুয়া মসজিদ

ঝালকাঠি প্রতিনিধি ॥
বাংলার সুলতানি ও মোঘল আমলের প্রাচীন মুসলিম ঐতিহ্যের চিহ্ন নিয়ে আজও সগৌরবে দাঁড়িয়ে আছে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার গালুয়া পাকা মসজিদ। এটি এখন কেবল প্রার্থনার স্থানই নয়, মুসলিম সম্প্রদায়ের সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ স্থাপত্য এবং গবেষক ও পর্যটকদের কাছে অন্যতম আকর্ষণে পরিণত হয়েছে। ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের ভাণ্ডারিয়া-রাজাপুর মহাসড়ক থেকে এক কিলোমিটার দূরে নিঝুম পরিবেশে মসজিদটির অবস্থান। মসজিদ
সঠিক নির্মাণকাল নিয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও এর স্থাপত্যশৈলীতে সুলতানি ও মোঘল আমলের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, বাংলা ১১২২ সালে মাহমুদ জান আকন্দ নামক এক ব্যক্তি ঘন জঙ্গলের মধ্যে এই মসজিদটি আবিষ্কার করেন। লোকমুখে প্রচলিত আছে, মসজিদটি সংস্কারের সময় সেখানে বড় বড় সাপ দেখা গিয়েছিল। সাপগুলোকে মসজিদ ছেড়ে যাওয়ার অনুরোধ করা হলে তারা স্বেচ্ছায় চলে যায়। এমন অলৌকিক গল্পের কারণে এটি স্থানীয়দের কাছে ‘জীনের মসজিদ’ নামেও পরিচিত। সেই থেকেপর্যন্ত মসজিদটিতে নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় হয়ে আসছে।স্থাপত্যগত দিক থেকে এটি এক গম্বুজ বিশিষ্ট একটি মসজিদ। পাকা ইট এবং চুন-সুরকির মিশ্রণে তৈরি এই মসজিদের দেয়ালে খোদাই করা রয়েছে নিপুণ কারুকার্য ও নকশা। প্রাচীন মুসলিম সংস্কৃতি ও ইতিহাসের সাক্ষ্য বহনকারী এই স্থাপনাটি ধর্মপ্রাণ মানুষের ইবাদতের পাশাপাশি এখন পর্যটন ও গবেষণার কেন্দ্রবিন্দু।
তবে দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে এর আদি জৌলুস অনেকটা ম্লান হতে বসেছে। মসজিদটির ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় গুরুত্ব বিবেচনা করে দ্রুত সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ইমাম ও মুসল্লিরা।এ বিষয়ে রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি জানান, মসজিদটি সংস্কারের জন্য এরই মধ্যে প্রশাসনিকভাবে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত © All rights reserved © 2024 DailyBiplobiBangladesh.com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com